সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

প্রশ্ন

যদি সময়ের হাত ধরে, প্রিয় গল্পের আবদারে
হঠাৎ কোনদিন এসে বলি
এখনো ভালোবাসি
তবে কি বিশ্বাস করবে তুমি?
নাকি চেনা অভিমানে দূরে সরে যাবার বাহানায়,
বলবে
এভাবেই কত রাতের দেখা স্বপ্নগুলো
বিলীন হয়ে গেছে ভোরের আলোয়
কখনো তার হিসেব রাখা হয় নি অংকের খাতায়

যদি বাঁধনহারা ইচ্ছেগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে
আবার কোনদিন এসে বলি
তোমায় নিয়ে একটা কবিতা লিখেছি
তবে কি সেই কবিতা পড়তে চাইবে তুমি?
নাকি ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির ফোয়ারা তুলে,
বলবে
এভাবেই রোজ কত কবিতার শবদেহ
পড়ে থাকে শহরতলির রাজপথে!
কখনো তার ঠাঁই পাওয়া হয় না খবরের শিরোনামে।

বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো!
অনির্বাণ সবুজে নিরন্তর কলেজ ক্যাম্পাস।
তুমি, আমি আর ধোঁয়া ওঠা দুকাপ চা
তারপর
গল্পের ছলে তোমার চোখে চোখ রেখে,
বেখেয়ালী মনে অনেকটা সময় কাটিয়ে দেয়া।

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো!
আবছা নীলে ঢাকা শেষ বিকেলের আকাশ
তুমি, আমি আর হুড খোলা রিকশা।
তারপর...
তীব্র জ্যাম বাঁধা রাস্তায় পাশাপাশি বসে,
আনমনা হয়ে কিছুটা সময় পার করা।

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো!
মায়াবতী দিঘির জলে রুপোলী চাঁদের ছায়া
তুমি, আমি আর ছোট্ট ডিঙি নাউ
তারপর...
ভালোবাসার উষ্ণতায় তোমার কোলে মাথা রেখে,
ইচ্ছাকৃত সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়া।
গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো!

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮

মৃত্যুর প্রহর গুনছি

আমার ভালোবাসা জুড়ে বাসা বেঁধেছে লিউকেমিয়া!
ভালোবাসার রক্তে অবিশ্বাসের শ্বেত কণিকাগুলো
অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে!
তোমার জন্যে থাকা অনুভবের অস্তিত্বগুলো
আজ মরণের পথে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে
মৃত্যুর প্রহর গুনছি।
তবুও আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালোবাসাকে বাঁচানোর।
কেমোথেরাপী, রেডিয়েশন থেরাপী অথবা স্টেম সেল
কিছুই বাদ যায়নি!
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে
প্রেম নামক ডাক্তাররা বলেই দিয়েছে,
আয়ু বড়জোর তিনমাস!



বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

স্বপ্ন সিঁড়ি মেয়ে

কোনো এক সবুজ গাঁয়ের চঞ্চলা এক মেয়ে,
নিঝুম রাতে ক্লান্ত চোখে স্বপ্ন সিঁড়ি বেয়ে।
চললো ছুটে অচিন পথে ফুল পাখিদের নিয়ে,
কাঠবেড়ালির সঙ্গে দিলো পুতুল সোনার বিয়ে
হাজার হাজার পাখি এলো বিয়ের নিমন্ত্রণে,
গান শুনিয়ে প্রাণ জুড়ালো কোকিল পরক্ষণে।
সেই আসরে সবুজ টিয়া দেখালো তার নাচ,
একে ওকে প্রশ্ন করাই শেয়াল মামার কাজ!
টিকটিকিরা মিলে সবাই ধরলো জারি গান,
আবার যেন সেই আসরে ফিরলো গানের প্রাণ।
ফুলগুলো সব এলো চুলে দুললো হাওয়ার দোলে,
মুচকি হেসে মুখ লুকালো ফড়িং ঘাসের কোলে।
স্বপ্ন খেয়ায় ধীরে ধীরে হারালো সেই রাত,
প্রজাপতির পাখায় চড়ে ফিরেছে প্রভাত।
চঞ্চলা সেই মেয়ে তখন ভোরের পাখির ডাকে,
এক নিমিষেই ফিরে এলো স্বপ্নের দেশ থেকে।

সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭

আরেকটি ভোর সাজাই

অপেক্ষার প্রহরগুলো এক সময় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম হয়ে ওঠে,
ফুরিয়ে আসে সময়ের পথটাও!
আমি তবু চিরচেনা জামরুলের ঘ্রাণ পেতে
এক নিমিষে ছুটে চলে যাই সেই ঠিকানায়
যেখানে কেটে গিয়েছিল স্মৃতিমাখা শেষের দিনগুলো
মাঝ পথে নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি
ভিজে যাই আমি,
আর সঙ্গে ভেজে মনের কোণে জমে থাকা সবটুকু অভিমান
ঠিক তখনই বারবার ফিরে যেতে মন চায় তোমাতে
বলতে ইচ্ছে করে,
অনিরুদ্ধ
চলো আরেকটি ভোর সাজাই,
অভিমানবিহীন রৌদ্রজ্জ্বল একটি ভোর